Pages

Post Share

অহদাতুল ওজুদ ও জামিয়াতুল আসাদ


যা না জানলেই নয়

আল্লাহ তায়ালা কে? কেমন ? কোথায় ? ইত্যাদি আকিদা বিষয়ক ব্যাপারে প্রত্যেক মুসলিমদের পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যিক।কিন্তু কুরআনের যে সব আয়াতে এই ব্যাপার গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার বিন্দুমাত্র এদিক ওদিক করলে বিরাট অর্থ বিভ্রান্তি ঘটার সম্ভাবনা আছে তাই এই সব আয়াত ঐ ভাবে বুঝতে হবে যে ভাবে আল্লাহর রাসূল সাঃ নিজে বুঝছেন ও সলফে সলেহীনদের শিক্ষা দিয়েছেন।

বস্তুত কুরআনের এমন অসংখ্য আয়াত আছে যেগুলো সাধারণভাবেই নিজেই অর্থ প্রকাশ করে,আবার কিছু আয়াত আছে যা বুঝার জন্য অন্য আয়াতের সাহায্য নিতে হয়,আবার কিছু আয়াত আছে যা বুঝার জন্য এর আগের ও পরের আয়াতকে জানা প্রয়োজন,আবার কিছু আয়াত আছে যা কুরআনের অন্য আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে,আবার কিছু আয়াত বুঝার জন্য তা অবতীর্ণ হওয়ার কারণ জানা জরুরী।

অহদাতুল ওজুদ ও জামিয়াতুল আসাদ

পীরতন্ত্র ও জামিয়াতুল আসাদ পোস্টে আমারা দেখিয়েছি যে লেখক নিজেই তাফসীর করেছেন বা আয়াতের শানে নুযূল বাদ দিয়েছেন বা আয়াতে শব্দের অর্থ পরিবর্তন করার মত জঘন্যতম কাজ করেছেন। আজকের পোস্টে আমরা দেখব লেখক কিভাবে আয়াতের শানে নুযূল বা আগের ও পরের অংশ বাদ দিয়ে অহদাতুল ওজুদের পক্ষে মতামত পেশ করেছেন। সমস্ত আয়াতসমূহের ব্যখা তাফসীর ইবনে কাসির হতে গৃহীত ।

প্রথমে আপনারা নিজেই তাদের পোস্টটি দেখে আসুন

লেখক বলেন


কথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায় প্রচার করে থাকে, আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান নয়। তারা দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে সূরা হাদীদের ৩ নং আয়াত। যেখানে ঘোষিত হয়েছে আল্লাহ তায়ালা আরশে সমাসিন। ওরা একটি আয়াত দিয়ে আরো অসংখ্য আয়াতকে অস্বিকার করে নাউজুবিল্লাহ। যেই সকল আয়াত দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান।

লেখক বার বার একটি আয়াত একটি আয়াত বলে হুঙ্কার ছাড়লেন প্রকৃত পক্ষে আল্লাহ পাক স-সত্ত্বায় আরশে সমাসীন তার পক্ষে একটি নয় বরং কম করে হলেও কুরআন ও সহীহ হাদিসের ১৫-১৭ টি দলিল রয়েছে।তবে একটি ব্যাপার না বললেই নয়।

ইমাম আবু হানিফার মতে
যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ আরশে আছেন একথা বিশ্বাস করে, কিন্তু সন্দেহ করে যে, আরশ আসমানে আছে না জমিনে তবে সে কাফের বলে গণ্য হবে। (দ্র: আল্ ফিকহুল আবসাত)
সুতরাং আজ থেকে সকল হানাফি মুকাল্লিদগণ হয় ইমাম আবু হানিফার এই ফতোয়া মেনে নিন নইলে হানাফী মাজহাবের অনুসারী এইরূপ দাবী বর্জন করুন।

যেহেতু আমাদের সাইটে শুধুমাত্র অপব্যখা নিয়ে আলোচনা করা হয় ও হবে ইনশাআল্লাহ। সেহেতু "আল্লাহ তায়ালা কোথায়" এ বিষয়ে সঠিক ও বিস্তারিত জানতে নিম্নে ক্লিক করুন

সোনার বাংলাদেশ

সালাফি বিডি

সরল পথ

তাওহীদুল্লাহ

ইসলাম হাউজ


অতঃপর লেখক বলেন
এক আয়াতকে মানতে গিয়ে আরো ১০/১২টি আয়াত অস্বিকার করার মত দুঃসাহস আসলে কথিত আহলে হাদীস নামী ফিতনাবাজ বাতিল ফিরক্বাদেরই মানায়।

"এক আয়াতকে মানতে গিয়ে" বলতে লেখক কি বুঝাতে চাইলেন ???পাঠকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কুরআনের এক আয়াত আরেক আয়াতের সাথে কখনোই সাংঘর্ষিক নয়।আর মুসলিমদের এর উপর বিশ্বাস করা ফরজ

ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য।সূরা বাকারা-২

অতঃপর লেখক বলেন
অসংখ্য আয়াতে কারীমাকে অস্বিকার করে আল্লাহ তায়ালাকে কেবল আরশে সীমাবদ্ধ করার মত দুঃসাহস ওরা দেখাতে পারলেও আমরা পারি না। আমরা বিশ্বাস করি-আল্লাহ তায়ালা আরশেও আছেন, আছেন জমিনেও, আছেন পূর্বেও। আছেন পশ্চিমেও। আছেন উত্তরেও। আছেন দক্ষিণেও। উপরেও আছেন। নিচেও আছেন। আল্লাহর গোটা রাজত্বের সর্বত্র তার সত্তা বিরাজমান।

অসংখ্য আয়তে কারীমাকে প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা অস্বীকার করে তার দলিল পূর্বেই দেয়া হয়েছে।উপরন্তু লেখক যেসব দলিল দিয়ছেন তা কুরআনের কি রকম অপব্যখা করেছেন তা ধরে ধরে নিম্নে উল্লেখ করা হল।উল্লেখ যে, লেখক আল্লাহ তায়ালার আকার নিয়েও "আহলে হাদিসদের আক্বীদা"-র নিন্দা করেছেন ও তার মতের পক্ষে দলিল পরে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন আর তাই আমরাও যথাস্থানে তার জবাব দিব ইনশাআল্লাহ।

অতঃপর লেখকের দলিল
১-
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অতঃপর তিনি আরশে সমাসিন হন {সূরা হাদীদ-৩}

সম্পূর্ণ আয়াত
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاء وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়টি সময়কালে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। সূরা হাদীদ-৪

লেখক প্রথমে আয়াতের রেফারেন্স ভুল দিয়েছেন। তারপর আবার আয়াতের আগের অংশ বাদ দিয়েছেন।উল্লেখ একই আয়াত তিনি তার ৬ নং দলিল হিসাবে পেশ করেছেন।পাঠকগণ লক্ষ্য করুন, একই আয়াতে একই সাথে আল্লাহ তায়ালা তাঁর আরশের উপর থাকা এবং তাঁর বান্দাদের সাথে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। এজন্য এই বিষয়ে তাফসীর জানা আবশ্যক।ইবনে কাসির সহ বিশিষ্ট তাফসীরকারকদের মতে এখানে "যা আকাশে উত্থিত হয়" বলতে ফেরেশতা ও আমলকে বুঝানো হয়েছে আর "সাথে থাকা" বলতে প্রত্যেক কাল ও স্থানে( হোক তা জলে স্থলে বা অন্তরীক্ষে) বান্দা যা কিছু করে আল্লাহ পাক সেসব দেখছেন ও শুনছেন তা বুঝানো হয়েছে।নিম্নের দলিলগুলো পড়লে ব্যাপারটি আরো পরিষ্কার হবে ইনশাআল্লাহ।

অতঃপর লেখকের দলিল
২-
قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}
আর যখন আমার বান্দা আমাকে ডাকে, তখন নিশ্চয় আমি তার পাশেই। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে ডাকে। {সূরা বাকারা-১৮৬}
সম্পূর্ণ আয়াত

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُواْ لِي وَلْيُؤْمِنُواْ بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে,তখন তাদেরকে বলে দাওঃনিশ্চয়ই আমি রয়েছি সন্নিকটে । কোন আহ্বানকারী যখনি আমাকে আহ্বান করে,তখনই আমি তার আহাবানে সাড়া দিয়ে থাকি; সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস করে তাহলেই তারা সঠিক পথে চলতে পারবে।

লেখক আয়াতের আগের ও পরের অংশ বাদ দিয়েছেন।তাফসীর ইবনে কাসিরে এর ব্যাখ্যায় বলা আছে,একজন পল্লীবাসী রাসুলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞাসা করেঃ হে আল্লাহর রাসূল সাঃ আমাদের প্রভু কি নিকটে আচেন,না দূরে আছেন?যদি নিকটে থাকেন তবে চুপে চুপে ডাকবো আর যদি দূরে থাকেন তবে উচ্চৈঃস্বরে ডাকবো। এতে রাসুলুল্লাহ সাঃ নীরব হয়ে যান । তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।(মুসনাদ -ই- ইবনে আবি হাতিম)।

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তায়ালা প্রার্থনাকারীদের প্রার্থনা ব্যর্থ করেন না । এরকমও হয় না যে,তিনি বান্দাদের প্রার্থনা হতে উদাসীন থাকেন বা শুনেন না।এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা প্রার্থনা করার জন্য তাঁর বান্দাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং প্রার্থনা ব্যর্থ না করার অঙ্গীকার করেছেন।

অতঃপর লেখকের দলিল
৩-
قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ} [ق 16]
আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

সম্পূর্ণ আয়াত

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।


লেখক আয়াতের আগের অংশ বাদ দিয়েছেন।পাঠক আয়াতটি আবার ভালোভাবে লক্ষ্য করুন।এখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর জ্ঞানের পরিধির কথা বলছেন অর্থাৎ মানুষের অন্তর যে ভালমন্দ চিন্তার উদ্রেক হয় আল্লাহ তায়ালা তা সম্পর্কে অবগত।লেখক আয়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু নিজের স্বার্থেই বাদ দিয়েছেন।

"আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী" অর্থাৎ ফেরেশতাগণ।আল্লাহ তায়ালা নিজেই এর পরের আয়াত দুইটিতে তা উল্লেখ করেছেন

إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ
যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে।
مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।

কারো কারো মতে, উক্ত আয়াতের{সূরা কাফ-১৬} মাধ্যমে আল্লাহর ইলম বা অবগতিকে বুঝানো হয়েছে।


অতঃপর লেখকের দলিল

৪-
فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85)
অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা {সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫}

আলহামদুলিল্লাহ্‌ লেখক এই দলিলে আয়াতের পূর্ণ অনুবাদ করেছেন তবে তিনি ব্যখা করেছেন নিজের পক্ষে।
পাঠক লক্ষ্য করুন, আল্লাহ তায়ালা এখানে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফটকারীর কথা ব্যক্ত করেছেন। ইবনে কাসির ৩ নং দলিল {সূরা কাফ-১৬} এর ব্যাখ্যায় এই ৪ নং দলিলের কথা উল্লেখ করে বলেন এখানে ফেরেশাদেরকে(মালাকুল মাউত) বুঝানো হয়েছে।যেমন আল্লাহ তায়ালা অপর এক আয়াতে বলেন

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।

এখানেও ফেরেশতা (জিবরীল আমীন) উদ্দেশ্য।আল্লাহ তায়ালা নিজেই অন্য এক আয়াতে মৃত্যুর এই ব্যপারটি পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন।

وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُم حَفَظَةً حَتَّىَ إِذَا جَاء أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لاَ يُفَرِّطُونَ অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা করছিলে। তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়। ৬:৬১



অতঃপর লেখকের দলিল

৫-
{ وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]
পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

সম্পূর্ণ আয়াত, তবে আয়াতের উত্তম অনুবাদটি এরকম
আল্লাহর জন্যে পূর্ব ও পশ্চিম ; অতএব তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সে দিকেই আল্লাহর চেহারা বিরাজমান ;আল্লাহ (সর্বদিক) পরিবেষ্টনকারী পূর্ণ জ্ঞানবান।

সম্মানিত পাঠকগণ কুরআনের এমন কিছু আয়াত আছে যা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে একসাথে নাজিল হয়েছে ।এই আয়াতটি তেমন একটি আয়াত তবে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম মত হচ্ছে "কিবলাহ্‌ পরিবর্তন"।উক্ত আয়াতটি এই মর্মেই নাজিল হয়েছে।

রাসুল সাঃ প্রথম জীবনে মক্কায় অবস্থানকালে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করতেন।তখন কা'বা ঘরও সামনে থাকত।মদীনায় আগমনের পর ১৬/১৭ মাস পর্যন্ত তিনি বায়তুল মুক্কাদাসের দিকে মুখ করেই সলাত আদায় করতেন যদিও তখন কা'বা শরীফ পিছনে পরে যায়।কিন্তু কা'বা ঘর তার কিবলা হোক এটাই তার মন চাইত এবং আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করে নেন।আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেন

قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاء فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّواْ وُجُوِهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।সূরা বাকারা-১৪৪

উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ইহুদীরা বিদ্রূপ করতে থাকে যে কিবলা পরিবর্তন কেন হল? আর আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে তাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, পূর্ব-পশ্চিম সর্বদিকই আল্লাহর,কোন দিকে মুখ ফিরাতে হবে এই ব্যাপারে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।কাফেরদের এরূপ প্রশ্ন কেন?

এই কিবলা পরিবর্তনই হচ্ছে কুরআনে বর্ণিত প্রথম মানসুখ হুকুম অর্থাৎ বর্তমানে কোন মুসলিম বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করতে পারবে না, তাকে কাবা ঘরের দিকে মুখ করেই সলাত আদায় করতে হবে।

অতঃপর লেখকের দলিল

৬-
قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد - 4 ]
তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}

১ নং দলিলের জবাবে আলোচিত।

অতঃপর লেখকের দলিল
৭-
وقال تعالى عن نبيه : ( إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية40
যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন {সূরা হাদীদ-৪০}

সম্পূর্ণ আয়াত

إِلاَّ تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُواْ ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لاَ تَحْزَنْ إِنَّ اللّهَ مَعَنَا فَأَنزَلَ اللّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُواْ السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ আল্লাহ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সূরা তাওবা-৪০


লেখক প্রথমে আয়াতের রেফারেন্স ভুল দিয়েছেন। তারপর আবার আয়াতের আগের অংশ বাদ দিয়েছেন।পাঠকগণ এখানে স্পষ্টত হিজরতের ঘটনা বলা হয়েছে।রাসূল সাঃ তার সবচেয়ে প্রিয় ও দুঃসময়ের সঙ্গী হজরত আবূ বকর রাঃ কে নিয়ে মক্কা হতে বেরিয়ে যান। তিনদিন পর্যন্ত 'সাওর' পর্বতের গুহায় তারা আশ্রয় নেন।বুখারী ও মুসলিমের হাদিসে আছে, আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত, আবু বাকর রা. গুহায় নবী সাঃ বলেন, এই কাফিরদের কেউ যদি আমাদের পায়ের দিকে তাকায় তবেই তো আমাদের দেখে নেবে। তখন তিনি বলেন, "হে আবূ বকর! তুমি ঐ দুইজনকে কি মনে কর যাদের তৃতীয়জন আল্লাহ রয়েছেন ?" আর আল্লাহ তায়ালাও এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে সমর্থন দিয়ে উক্ত আয়াত নাজিল করেন।

অতঃপর লেখকের দলিল
৮-
قوله تعالى مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7 )
কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন {সূরা মুজাদালা-৭}

সম্পূর্ণ আয়াত

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

এখানে স্পষ্টত আল্লাহ তায়ালা তাঁর জ্ঞান তথা জানার পরিধির কথা ব্যক্ত করেছেন।কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকে না।৩,৪,৫ জন মানুষ গোপনে যে পরামর্শ করে সেই ব্যপারেও আল্লাহ তায়ালা অবগত আচেন।সাথে সাথে সম্মানিত ফেরেশাগণও তা লিপিবদ্ধ করে রাখছেন।আর হাশরের ময়দানে তাদের ঐ ভাল-মন্দ পরামর্শ বা কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে।

অতঃপর লেখকের দলিল
৯-
وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}
সম্পূর্ণ আয়াত

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

আয়াতুল কুরসী নামে পরিচিত এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পরিচয় ও শ্রেষ্ঠত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করেছেন।উপরের আলোচনায় "আল্লাহ সাথে আছেন" বলতে যে তাঁর জ্ঞানকেই বুঝানো হয়েছে তা এই আয়াতের এই অংশ দ্বারা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়।কিন্তু লেখক এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটিকেই বাদ দিয়েছেন।বিভিন্ন সাহাবা হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত, আল্লাহর কুরসী আসমান ও জমিন পরিবেষ্টিত আর কুরসী হচ্ছে আরশের নিচে।আর আল্লাহ তায়ালা রয়েছেন সেই আরশের উপর যেমনটি ১ নং দলিলে আলোচনা করা হয়েছে ।

অতঃপর লেখক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নিজের মনগড়া যুক্তির অবতারনা করেছেন।কিন্তু ইসলাম, শুধু যুক্তিতে নয়,বরং দলিল সমর্থিত যুক্তিতে বিশ্বাসী।লেখক আল্লাহ তায়ালাকে বিভিন্ন কিছুর সাথে তুলনা করে উদাহরণ দিয়েছেন।কুরআনের একটি আয়তই এই মর্মে যথেষ্ট

فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। সূরা শুরা-১১
অতঃপর লেখক বলেন
আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান হলে আকাশের দিকে কেন হাত উঠিয়ে দুআ করা হয়?
আদবের জন্য। যদিও আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান। তিনি ডান দিকেও আছেন, বাম দিকেও আছেন, উপরেও আছেন, নিচেও আছেন। সামনেও আছেন। বাম দিকেও আছেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার শান হল উঁচু, তাই আদব হিসেবে উপরের দিকে হাত উঠিয়ে দুআ করা হয়।
যেমন কোন ক্লাশরুমে যদি লাউডস্পীকার ফিট করা হয়। চারিদিক থেকে সেই স্পীকার থেকে শিক্ষকের আওয়াজ আসে। তবুও যদি কোন ছাত্র শিক্ষকের দিকে মুখ না করে অন্যত্র মুখ করে কথা শুনে তাহলে শিক্ষক তাকে ধমক দিবেন। কারণ এটা আদবের খেলাফ। এই জন্য নয় যে, অন্য দিক থেকে আওয়াজ শুনা যায় না। তেমনি আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান থাকা সত্বেও উপরের দিকে মুখ করে দুআ করা হয় আল্লাহ তায়ালা উুঁচু, সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই আদব হিসেবে উপরের দিকে হাত তুলে দুআ করা হয়।

বড়ই সুন্দর যুক্তি।তবে সম্মানিত লেখক তর্কের খাতিরে পৃথিবীকে ক্লাসরুম,বান্দাদেরকে ছাত্র হিসেবে মনে করে নিলাম।(আকার-আকৃতি,বৈশিষ্টগত দিক দিয়ে সাদৃশ্য থাকার কারণে;বলা বাহুল্য প্রথম সারির ছাত্র নাবী,সাহাবা,নেককারগণ;অমুসলিম ছাত্র বিধর্মীগণ;এইভাবে ঈমান অনুযায়ী আস্তে আস্তে পিছনের সারির ছাত্র)কিন্তু শিক্ষক আর আল্লাহ তায়ালা কি এক হতে পারে???
নাউজুবিল্লাহ কখনোই নয়।

আবার ঐ লাউডস্পীকারটা কি আর তা কোথায় ফিট করা আছে???

তর্কের খাতিরে কুরআনকে লাউডস্পীকার ধরে নিলাম(ক্লাসের বিভিন্ন স্থানে রাখা স্পীকার শিক্ষকের কথা বিবর্ধিত করে ছাত্রদেরকে জানায় আর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত কুরআনও আমাদেরকে আল্লাহর বানী জানায়)কিন্তু তাতেও শিক্ষকের সাথে আল্লাহ তাআলাকে তুলনা করা যায় না।

আর আরেকটা কথা, শিক্ষক তো সাড়া ক্লাস জুড়ে অবস্থান করেন না(যেহেতু আপনারা বলেন আল্লাহ স্ব-সত্তায় সর্বত্র অবস্থান করেন)শিক্ষক তার নির্দিষ্ট আসনেই বসা থাকেন সেখান থেকেই তার কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে থাকেন। আপনাদের খোঁড়া যুক্তিকে মেনে নিলে এটাও মানতে হবে যে আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান নয় বরং ঐ আরশের উপরেই আছেন।

শিক্ষক আদবের খেলাফের কারনে সাথে সাথে ছাত্রকে ধমক দিলেও আল্লাহ তায়ালা তাঁর হুকুম অমান্যকারীকে সাথে সাথে পাকরাও করেন না।তাদের বিচার হবে হাশরের ময়দানে।

আর ফেরেশতা, জান্নাত জাহান্নাম............ আশা করি ঐ সব না বললেও চলবে।হয়ত কেউ বলবেন আরে ভাই লেখক উদাহরণ দিয়েছেন,আমরা এত জটিলতা বাড়াচ্ছি কেন??প্রতিউত্তরে বলব এরকম খোঁড়া যুক্তি মার্কা উদাহরণ টানেন কেন???????

মোটকথা, আপনার এই শিক্ষক-ছাত্র-ক্লাসরুম মার্কা খোঁড়া যুক্তি আল্লাহ-বান্দা-পৃথিবী ইত্যাদির সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অতঃপর লেখক বলেন
জিবরাঈল উপর থেকে নিচে নেমে আসেন মানে কি?
এর মানে হল-যেমন পুলিশ এসে কোন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে কারণ বলে যে, উপরের নির্দেশ। এর মানে কি পুলিশ অফিসার উপরে থাকে? না সম্মান ও ক্ষমতার দিক থেকে যিনি উপরে তার নির্দেশ তাই বলা হয় উপরের নির্দেশ? তেমনি আল্লাহ তায়ালা ফরমান নিয়ে যখন জিবরাঈল আসেন একে যদি বলা হয় উপর থেকে এসেছেন, এর মানেও সম্মানসূচক ও পরাক্রমশালীর কাছ থেকে এসেছেন। তাই বলা হয় উপর থেকে এসেছেন। এই জন্য নয় যে, আল্লাহ তায়ালা কেবল আরশেই থাকেন।

আহাহা,বড়ই চমৎকার।এখানে পুলিশ আর অফিসার দুইজনই একই আকার-আকৃতি,বৈশিষ্টগত দিক থেকে একই গোত্রের প্রাণী কিন্তু যোগ্যতাগত দিক থেকে তাদের মর্যাদা ভিন্ন।যেহেতু আপনারা আল্লাহর আকারে অবিশ্বাসী তাই শুধু এতটুকু বলুন যে, বৈশিষ্টগত দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা কি ফেরেশতাদের মত।নাউজুবিল্লাহ এরকম উদাহরণ দেয়ার আগে শতবার ভেবে দেখবেন।

আবার পুলিশ এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সময় বিশেষ কোন সহিংসতা বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায় তবে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তাৎক্ষনিক ঐ অনুষ্ঠানে অথবা জবাবদিহিতার জন্য অফিসারকে প্রেস ব্রিফিং-এ আসতে হবে।
বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের সাথে অহরহ সহিংস ঘটনা ঘটছে অফিসার তো দূরে থাক পুলিশেরও কোন দেখা পাওয়া যায় না।আর পুলিশ(ফেরেশতা) যদি ছদ্মবেশ ধরেও আসে তবুও তো আমরা তাকে চিনতে পারবো না।

মোটকথা, আপনার এই পুলিশ-অফিসার মার্কা খোঁড়া যুক্তি আল্লাহ-বান্দা-পৃথিবী ইত্যাদির সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অতঃপর লেখক বলেন
আল্লাহ তায়ালা কি সকল নোংরা স্থানেও আছেন? নাউজুবিল্লাহ
এই উদ্ভট যুক্তি যারা দেয় সেই আহমকদের জিজ্ঞেস করুন। তার কলবে কি দু’একটি কুরাআনের আয়াত কি সংরক্ষিত আছে? যদি বলে আছে। তাহলে বলুন তার মানে সীনায় কুরআনে কারীম বিদ্যমান আছে। কারণ সংরক্ষিত সেই বস্তুই থাকে, যেটা বিদ্যমান থাকে, অবিদ্যমান বস্তু সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তো সীনায় যদি কুরআন বিদ্যমান থাকে, সেটা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কিভাবে জায়েজ? কুরআন নিয়েতো টয়লেটে যাওয়া জায়েজ নয়। তখন ওদের আকল থাকলে বলবে-কুরআন বিদ্যমান, কিন্তু দেহ থেকে পবিত্র কুরআন। তেমনি আমরা বলি আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান। কিন্তু তিনি দেহ থেকে পবিত্র। সেই হিসেবে সর্বত্র বিরাজমান। সুতরাং কুরআন যেমন সীনায় থাকায় সত্বেও টয়লেটে যেতে কোন সমস্যা নেই। কুরআনে কারীমের বেইজ্জতী হয়না, সীনায় সংরক্ষিত কুরআনের দেহ না থাকার কারণে, তেমনি আল্লাহ তায়ালার দেহ না থাকার কারণে অপবিত্র স্থানে বিদ্যমান থাকাটাও কোন বেইজ্জতীর বিষয় নয়।

পাঠক ভালো করে লক্ষ্য করুন,লেখক নাস্তিকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আল্লাহ তায়ালাকে অপবিত্র স্থানে বিদ্যমান রাখতেও দ্বিধান্বিত নন।আল্লাহ তাকে মাফ করুন।লেখক শুধু সীনায় কুরআন আছে বলে বলেই পাড় হয়ে গেলেন।কিন্তু তাকওয়ার কথা একটি বারও বললেন না কেন???নাকি টয়লেটে গেলে লেখকের তাকওয়া উড়ে চলে যায়।কুরআনের আয়াত মুখস্ত থাকা বা অন্তরে তাকওয়া রাখা এসবই অদৃশ্যমান ব্যাপার।আবার দেহ/আকার থাকা হচ্ছে দৃশ্যমান ব্যাপার।লেখক নাস্তিকদের মত প্রশ্ন করবেন না যে দেহ থাকলে আল্লাহ কে দেখি না কেন?পৃথিবীর সামান্য শতাংশ জিনিসই মানুষ খালি চোখে দেখতে পায়।আবার অনেককিছু তো দেখতেই পায় না।

আল্লাহ তায়ালার দেহ অবশ্যই আছে কিন্তু তা তাঁর মতই,তিনি এমন সৃষ্টিকর্তা যার সৃষ্টির সাথে তাঁর কোন তুলনাই হয় না।আর জান্নাতিগণদের দেয়া বহু নিয়ামতের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়ামত হচ্ছে তাঁর দর্শন।

লেখক কুরআন হিফযের সাথে আল্লাহর তুলনা দিয়েছেন।কুরআন আল্লাহর সিফাত কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ নয়।আর কুরআনের ব্যাখ্যা অসীম হলেও আয়াত সসীম আর তাই ইহাকে হিফজ করে সীনায় রাখা যায়।কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদের মালিক,তিনি হেফজ করার মত কোন বিষয় না,তিনি অসীম,তাঁর সকল ক্ষমতাও অসীম।আর তাকওয়াও আমাদের অন্তরেই থাকে।অর্থাৎ কুরআনের আয়াত যেমন অদৃশ্যর মত আমাদের অন্তরে থাকে তেমনি তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সাথে থাকেন,স্বসত্ত্বায় নয়।

অতঃপর লেখক বলেন
যেই সকল নির্বোধের দল আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমানতাকে অস্বিকার করে আল্লাহ তায়ালাকে নির্দিষ্ট স্থানে সমাসিন বলে আল্লাহ তায়ালার সত্তার বেয়াদবী করছে ওদের অপপ্রচার থেকে, বাতিল আক্বিদা থেকে আমাদের আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করুন। আমীন ।

কে নির্বোধ আর কে কুরআনের অপব্যখা করে,আল্লাহ তায়ালা আরশে নাকি সর্বত্র ,কোন আক্বীদাকে বিশ্বাস করা উচিত তা এখন পাঠকদের উপর আপনাদের সামনে প্রত্যেকের দলিল তুলে দেয়া হল। আক্বীদা আপনার, সিদ্ধান্ত আপনার। জান্নাত আপনার, জাহান্নামও আপনার।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কুরআন ও হাদিসের সহীহ বুঝ দান করুন।আমীন।

1 comments:

Admin said...

plz chaliye jaan....jamiyatul fasader biruddhe valo uddeg

Post a Comment

Total Pageviews