Pages

Post Share

পীরতন্ত্র ও জামিয়াতুল আসাদ

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।আমরা তাঁর প্রশংসা করি।আমরা তাঁর নিকট ক্ষমা চাই।আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের আত্মার অনিষ্ট হতে ও আমাদের কর্মের অন্যায় হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখান তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারে না।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা'বূদ নাই। তিনি এক ও তাঁর কোন শরীক নেই।আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাঃ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

ভূমিকা
জামিয়াতুল আসাদ পীরতন্ত্রের যে নীল বিষ মুসলিম সমাজে প্রচার ও প্রসারের চেষ্টা করছে,আজ তারই সরূপ উন্মোচনের চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ। পীরতন্ত্র কে জোরালো সমর্থন দিতে গিয়ে লেখক পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের যে মনগড়া ব্যখা তথা অপব্যখা দিয়েছে নিম্নে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হল।

প্রথমেই আপনারা নিজ চোখে একবার তাদের পোস্টটি দেখে আসুন

লেখক বলেছেন
পীর-মুরীদ কাকে বলে?
পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল মুরীদ।


লেখকের সংজ্ঞানুযায়ী, দ্বীনের প্রত্যেক আলেম ব্যক্তিই পীর এবং ঐ আলেম ব্যক্তির কথাবার্তা যারা মেনে চলেন তারা হচ্ছেন তার মুরীদ।আমি তার এই মতের সাথে পরিপূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা করছি। কিন্তু, বাস্তবিক পক্ষে ব্যাপারটি সেরকম নয় এবং বুজুর্গ বলতে গুটি কয়েক ব্যক্তিদেরকে বুঝানো হয়ে থাকে।দ্বীনের প্রত্যেক আলেম ব্যক্তি নিজেকে পীর বলে পরিচয় দেন না।কেননা, তারা আল্লাহ তায়ালার দেয়া নাম "আহুলুয যিকর"(সূরা নাহল-৪৩) নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চান। তদুপরি তাদের কাছে কাউকে হাত ধরে শপথ করতে দেখা যায় না।আরো উল্লেখ যে,একজন মানুষ যখন পরিপূরণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ করবে তখন তাকে অবশ্যই আল্লাহর উপর ঈমান আনতে হবে অর্থাৎ 'আল্লাহর আদেশ নিষেধ পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলবে' এই শর্তের উপরে ঈমান আনতে হবে।ফলে ঈমান আনার পর আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করা বড়ই আপত্তিকর তথা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

অতঃপর লেখক বলেন
পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল সাঃ থেকে চলে আসছে। রাসূল সাঃ সাহাবাদের আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন। সাহাবারা রাসূল সাঃ এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। বলা যায় রাসূল সাঃ হলেন সবচে’ প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।
আপনার কথার মধ্যেই ভুল।কেননা বাংলা বাক্য গঠনের তৃতীয় শর্ত (যোগ্যতা ) গুনটি সেখানে বিদ্যমান নেই।আপনি নিজেই বললেন রাসুল আবার নিজেই বললেন পীর;আসলে তিনি কোনটি প্রশ্ন রইল।
মুহাম্মাদ সাঃ হচ্ছেন আল্লাহর শেষ রাসুল ও নাবী(রাসূল=নাবী+কিতাব;নাবী=নির্বাচিত প্রতিনিধি)। সর্বোপরি তিনি একজন মাটির তৈরি মানুষ।আচ্ছা একটু জেনে বুঝে বলুন তো,

মুহাম্মাদ সাঃ কে কোন সাহাবা পীর বলে আখ্যায়িত করেছেন কি ?
তিনি যদি বড় পীর হন, তাহলে হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) কে?

শুধুমাত্র আপনার মত পীরতন্ত্রে বিশ্বাসীরাই এরূপ মূর্খতার পরিচয় দিয়ে থাকে।


কুরআন হাদীসে পীর মুরিদীর প্রমাণের অপচেষ্টাঃ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
اأَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)
আপনারা লক্ষ্য করুন লেখক 'সত্যবাদী' শব্দের জায়গায় 'সৎকর্মপরায়ণশীল' ব্যবহার করেছেন।বলা বাহুল্য যে, 'সত্যবাদী' শব্দটি 'সৎকর্মপরায়ণশীল' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়।

লেখকের দাবী
এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আমার মনে হয়, লেখক কোন দিন তাফসীর খুলেও দেখেন না।কুরআন ও হাদিস সেইভাবেই বুঝতে হবে যেভাবে রসূল সাঃ সাহাবাদের শিক্ষা দিয়েছেন। সম্মানিত পাঠকগণ, উক্ত আয়াতটি তার আগের আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট তাই উক্ত আয়াতদ্বয়ের বিস্তারিত শানে নুযূল ও ব্যাখ্যা ভালো ভাবে পড়ার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।তদুপরি আপনাদের সুবিধার্তে "তাফসীর ইবনে কাসির" হতে সল্প পরিসরে ঘটনাটি উল্লেখ করা হলঃ


আবদুল্লাহ ইবনে কা'ব ইবনে মালিক রাঃ হতে বর্ণিত, কা'ব ইবনে মালিক রাঃ সম্পূর্ণভাবে সুস্থ ও সচ্ছল থাকার পরেও তার প্রবৃত্তি আরামপ্রিয়তার দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ার কারণে তিনি তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।রাসুল সাঃ যুদ্ধ থেকে ফিরার পর যারা যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি(আশিজনের কিছু বেশী) তারা বিভিন্ন ওযর পেশ করতে লাগলো এবং কসম খেতে শুরু করলো। আল্লাহর রাসুল সাঃ তাদের বাহ্যিক কথার উপর ভিত্তি করে তা কবুল করে নিচ্ছিলেন এবং তাদের অবহেলার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করছিলেন।কিন্তু তাদের মনের গোপন কথা আল্লাহর দিকে সমর্পণ করছিলেন।যখন উক্ত সাহাবীর পালা আসলো তখন তিনি কোনরূপ বাহানা তৈরি না করে সরাসরি সত্য কথা বলে দিলেন যে"প্রকৃতপক্ষে আমার কাছে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করার কোনই বাহানা নেই"।রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন, "এ লোকটি বাস্তবিকই সত্য কথা বলেছে। ঠিক আছে তুমি এখন যাও তোমার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের অপেক্ষা কর।"কা'ব ইবনে মালিক রাঃ মত আরও দুইজন সাহাবা মুরারাহ্‌ ইবনে রাবী রাঃ ও হিলাল ইবনে উমাইয়া আলওয়াকেফী রাঃ এরূপ সত্যবাদিতার পরিচয় দিয়েছিলেন।রাসুল সাঃ জনগণকে ঐ তিনজন সাহাবাদের সাথে সালাম কালাম করতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন এবং লোকেরা তাদেরকে বয়কট করেছিল।এইভাবে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত হয়ে যায়।উল্লেখ চল্লিশ দিনের মাথায় রাসুল সাঃ দূতের মাধ্যমে তাদেরকে তাদের স্ত্রী হতে পৃথক থাকার নির্দেশ দেন।পঞ্চাশতম দিনে ফজরের সালাতের পর কা'ব ইবনে মালিক রাঃ বসা অবস্থায় ছিলেন। আর তাদের মানসিক অবস্থাকে আল্লাহ পাক উপরে বর্ণিত আয়াতের ঠিক পূর্বের আয়াতে এভাবে বর্ণনা করেছেন
وَعَلَى الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُواْ حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّواْ أَن لاَّ مَلْجَأَ مِنَ اللّهِ إِلاَّ إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُواْ إِنَّ اللّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই-অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল।সুরা তাওবা-১১৮
ওইদিনই ফজরের সালাতের পর রাসুল সাঃ ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে ফায়সালা এসেছে এবং উক্ত তিনজনের তাওবা কবুল করেছেন।সত্যবাদিতার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন।যখন তিনি নাবী সাঃ সাথে মাসজিদে এসে সাক্ষাত করেন তখন রাসুল সাঃ এর মুখমণ্ডল খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠে এবং তিনি বলেন "খুশি হয়ে যাও,সম্ভবত তোমার জন্মগ্রহণের পর থেকে আজ পর্যন্ত তোমার জীবনে এর চেয়ে বড় খুশির দিন আর আসেনি"।কাব ইবনে মালিক রাঃ বলেন,আল্লাহর শপথ যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ নিকট সত্যবাদিতার বর্ণনা করেছি তখন থেকে কখনো মিথ্যা কথা বলিনি"।সহীহুল বুখারী(২৫৫৮),মুসলিম(২৭৬৯),তিরমিজি(৩১০২),আবুদাউদ(২২০২)

সুতরাং উক্ত আয়াতে বুযুর্গদের সাহচর্যে নয় বরং ঐ তিন সাহাবার মত সত্যবাদীদের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যারা আল্লাহকে ভয় করেছেন এবং ফলাফল বিরূপ হতে পারে জেনেও সত্যকে গোপন করেননি বা মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করেননি বরং সবর করে সত্যের উপর অটল ছিলেন।সর্বোপরি, সত্যবাদিতার তাৎপর্য সম্পর্কে আরো অনেক সহীহ হাদিস বর্ণিত আছে।

অতঃপর লেখক
;اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ।
সুরা ফাতিহার ৬,৭ আয়াতদ্বয়কে সুরা নিসার ৬৯ আয়াত
;الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ।
-দ্বারা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করলেও "সরল পথ"(সুরা ফাতিহার ৬)এর কোন ব্যখা তিনি দেননি।উল্লেখ যে, তাফসীরকারকগণ সুরা ফাতিহার ৬ ও ৭ আয়াদ্বয়কে আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখপূর্বক ৭ নং আয়াতকে সুরা নিসার ৬৯ আয়াত দ্বারা তাফসীর করেছেন।কিন্তু লেখক উক্ত আয়াতদ্বয়কে একত্রে করে সুরা নিসার ৬৯ আয়াত দ্বারা তাফসীর করেছেন।সুরা ফাতিহার ৬ নং আয়াতের মর্মে,
হজরত আলী রাযী বলেন "সহজ সরল পথটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব"(ইবনে কাসির ১/১৩০ পৃঃ টীকা নঃ৮,তাফসীরে ত্বাবারী হা/৪০)
আবুদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, একটি সরল-সঠিক পথ তার দু'পাশে দু'টি প্রাচীর যাতে বহু খোলা দরজা রয়েছে এবং দরজা সমূহে পর্দা ঝুলানো রয়েছে। আর পথের মাথায় একজন আহ্বায়ক রয়েছে, যে লোকদেরকে আহ্বান করছে, আস! পথে সোজা চলে যাও। বক্র পথে চলিও না। আর তার একটু আগে আর একজন আহ্বায়ক লোকদেরকে ডাকছে। যখনই কোন বান্দা সে সকল দরজার কোন একটি খুলতে চায় তখনই সে তাকে বলে, সর্বনাশ দরজা খল না। দরজা খুললেই তুমি তাতে ঢুকে পড়বে, আর ঢুকলেই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাঃ কথাগুলির ব্যাখ্যা করে বললেন, সরল-সঠিক পথ হচ্ছে ইসলাম, আর খোলা দরজা সমূহ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বিষয় সমূহ এবং ঝুলানো পর্দা সমূহ হচ্ছে কুরআন। আর তার সম্মুখের আহ্বায়ক হচ্ছে এক উপদেষ্টা (ফেরেশতার ছোঁয়া), যা প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর পক্ষ হতে বিদ্যমান' (তিরমিযী হা/২৮৫৯; ত্ববারী হা/১৮৬-১৮৭)। উক্ত হাদিসে পথ শব্দটির সাথে সঠিক লাগানোর উদ্দেশ্য এমন পথ যাতে কোন ভুল নেই যার শেষ গন্তব্য জান্নাত।

অতঃপর লেখক পীর-মুরিদীর পক্ষে পুনরায় সমর্থন দিতে গিয়ে বলেন
যেহেতু আমরা নবী দেখিনি, দেখিনি সিদ্দীকগণও, দেখিনি শহীদদের। তাই আমাদের সাধারণ মানুষদের কুরআন সুন্নাহ থেকে বের করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে একজন পূর্ণ শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের অনুসরণ করার দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলাটা হবে সবচে’ সহজ।
লেখকের উক্ত মন্তব্য সম্পূর্ণ যুক্তিহীন। কেননা নবী-সিদ্দীকগণ-শহীদদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদেরকে জীবিত পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এই সামান্য ব্যাপারটি মহান আল্লাহ পাক কি জানেন না(নাউজুবিল্লাহ)।আমরা তাঁদেরকে দেখিনি বলেই আমাদেরকে তাদের রেখে যাওয়া আদর্শের পথেই চলতে হবে।বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসুল সাঃ এই সীরাতে মুস্তাকিম কি তার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেনঃ
আমি তোমাদের কাছে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা এ দু’টোকে আঁকড়ে থাকবে, তত দিন তোমরা গুমরাহ হবে না। সে দু’টো হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত(হাদিস)।
অর্থাৎ শুধু মাত্র আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত(হাদিস) জেনে-বুঝে মেনে চলার মাধ্যমেই মানুষ সীরাতে মুস্তাকিমের উপর টিকে থাকবে,অন্যথায় সে গোমরাহ হবেই হবে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, রাসুলের সুন্নাত হাদিস হয় কি করে ? জবাব জানতে এইখানে ক্লিক করুন।
লেখকের একই যুক্তি মাজহাব পালনের আবশ্যিকতা সরূপও পেশ করা হয়।এই একই যুক্তি তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন।তাই এর জবাব আমি দুইবার না দিয়ে শেষবারে দিয়েছি। নিম্নে তা লক্ষ্য করুন।

অতপর লেখক "নেককার ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ" এই মর্মে একটি সহীহ সনদের হাদিস বর্ণনা করেছেন
হযরত আবু মুসা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত। মেশক বহনকারী হয় তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দিবে, অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর কিছুই পাবে না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২১৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৮৬০........} এছাড়াও অনেক হাদীস নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণের প্রতি তাগিদ বহন করে।
পাঠকগণ লক্ষ্য করুন,উক্ত হাদিসে রাসুল সাঃ সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের উদাহরণ দিয়ে সঙ্গী নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বনের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন।কেননা মানুষ তার বন্ধু বা সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়।একই মর্মে আরও বহু সহীহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।কিন্তু লেখক উক্ত হাদিসের অপব্যখা দ্বারা আবারও পীর মুরিদী প্রমাণের অপচেষ্টা করেছেন।তাছাড়া 'পীর' শব্দটি 'নেককার ব্যক্তি'-র সমার্থক শব্দ নয়।কেননা, নেককার ব্যক্তিরা তাদের তাকওয়া জনসম্মুখে প্রচারের চেষ্টায় লিপ্ত থাকেনা এবং তার দলভারী করার মত দুনিয়াবি কোন আকাঙ্ক্ষাই তাদের থাকে না।

অতঃপর লেখক বলেন
বর্তমান সময়ে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ থেকে নিজে বের করে আল্লাহ তাআলার উদ্দিষ্ট সীরাতে মুস্তাকিমে চলা বান্দার জন্য কষ্টসাধ্য।
লেখকের এহেন বক্তব্য মোটেও ঠিক নয়।কেননা 'বর্তমান সময়ে' বলার সাথে সাথে আমাদেরকে শুকরিয়া আদায় করতে হয় সেই মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের যিনি মানুষের জ্ঞানকে ঐ পর্যায়ে যাবার তৌফিক দান করেছেন যার মাধ্যমে আমরা আজ হাতের কাছেই সব কিছু পেয়ে যাচ্ছি।আজ কুরআন ও হাদিস বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে,অনুবাদিত হয়েছে তাফসীর গ্রন্থসমুহ,তাহক্বিক করা হয়েছে সহীহ ও জইফ হাদিস সমুহ,অনুবাদ হয়েছে সে সমস্ত গ্রন্থ সমূহেরও, মুহূর্তের মধ্যে অনলাইনে বিভিন্ন জটিল বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেমগনের মতামত আমরা জানতে পারছি।

অতপর লেখক পুনরায় কুরআনের আয়াতের একই রকম অপব্যখার চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছেন
তাই আল্লাহ তাআলা সহজ পথ বাতলে দিলেন একজন বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে, তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ হয়ে যাবে।
লেখকের কাছে আমার আকুল আবেদন আপনি কোন তাফসির থেকে আপনার এহেন মতামত ব্যক্ত করেছেন তা অবশ্যই জানাবেন আর যদি নিজ জ্ঞানে তাফসির করে থাকেন তাও সাহসিকতার সহিত ব্যক্ত করবেন।

লেখক কুরআনের এহেন তাফসির করার মাধ্যমে মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহ বিমুখ করার মত যে জঘন্য উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছেন তার কোন দাঁত ভাঙ্গা জবাব নয় বরং আল্লাহর কাছে তার হিদায়াতের জন্য আকুল প্রার্থনা করছি ।

অতপর লেখক পীর মুরীদির শর্ত আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন
কিন্তু কথা হচ্ছে যার অনুসরণ করা হবে সে অবশ্যই সীরাতে মুস্তাকিমের পথিক হতে হবে। অর্থাৎ লোকটি {মুরশীদ বা পীর} এর মাঝে থাকতে হবে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ। বাহ্যিক গোনাহ থেকে হতে হবে মুক্ত। কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে হতে হবে প্রাজ্ঞ। রাসূল সাঃ এর সুন্নাতের উপর হতে হবে অবিচল। এমন গুনের অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পাওয়া যায়, তাহলে তার কাছে গিয়ে তার কথা মত দ্বীনে শরীয়ত মানার নামই হল পীর মুরিদী।
লেখকের এরূপ যুক্তির পুনঃ পুনঃ উপস্থাপনার পরিপেক্ষিতে কয়েকটি প্রশ্নের সহজেই অবতারণা ঘটে
১.অনুসরণীয় ব্যক্তি শরীয়তপন্থী কিনা তা বুঝার উপায় বা মানদণ্ড কি?২.সাধারণ মানুষ তা বুঝার ক্ষমতা রাখে কি?
৩.অনুসরণীয় ব্যক্তি অন্য মাজহাবের হলে তাকে অনুসরণ করা যাবে কিনা ?

অতঃপর লেখক একটি গুরুত্বপূর্ণ হক্ব কথা বলেছেন
আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য মুরীদ হওয়া জরুরী নয়।
তাহলে মুরীদ হবেন কেন???দ্বীন শিক্ষার জন্য???? এই পীর-মুরীদির বাস্তবিকতা আমি প্রথমেই পীর-মুরীদি সংজ্ঞায় ব্যক্ত তাই পুনঃ আলোচনার প্রয়োজনবোধ করছি না।

অতঃপর লেখক পীর-মুরীদির উপকারিতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন
একজন হক্কানী পীরের কাছে মুরীদ হলে শরীয়তের বিধান পালন ও নিষিদ্ধ বিষয় ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আসে মুরুব্বীর কাছে জবাবদিহিতা থাকার দরুন। সেই সাথে আল্লাহর ভয়, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
সম্মানিত লেখক,একজন মুসলিমকে তার কর্মের জন্য আখেরাতে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে এখানে আল্লাহর ভয় তথা তাকওয়া-ই গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক বিষয় । তদুপরি, আল্লহকে ভয় করতে ও ইবাদাতে একনিষ্ঠ হতে হবে শুধু মাত্র আল্লাহর জন্যই।ইবাদাতের প্রধান দুইটি শর্তের একটি হচ্ছে ইখলাস(অপরটি হচ্ছে সুন্নাহ)যার মানে হচ্ছে "ইবাদাত হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই" যদি ইবাদাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও রেযামন্দী তালাশ করা হয় সে আমল যত বড়োই হোক বাহ্যিকভাবে যত সুন্দরই হোক;আল্লাহর কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে না। এ বিষয়টি কি আপনি ভুলে গিয়েছেন নাকি জানেনই না,দয়া করে জানাবেন।

অতঃপর লেখক বলেন
বিশেষ করে আটরশী, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, মাইজভান্ডারী, রাজারবাগী, ফুলতলী, মানিকগঞ্জী, কেল্লাবাবা ইত্যাদী পীর সাহেবের দরবারে গেলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
লেখক উক্ত শুধু উক্ত পীরদের বিরোধিতা করলেন কেন?নিজের দল ভারী করার জন্য নাকি নিজেদের সাফাই গাওয়ার জন্য??

পরিশিষ্ট
আল্লাহ আমদেরকে পীর-মুরীদির এই ভ্রান্ত আক্বিদা হতে হেফাজত করুন এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের জীবনকে গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

0 comments:

Post a Comment

Total Pageviews