নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।আমরা তাঁর প্রশংসা করি।আমরা তাঁর নিকট ক্ষমা চাই।আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের আত্মার অনিষ্ট হতে ও আমাদের কর্মের অন্যায় হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখান তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারে না।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা'বূদ নাই। তিনি এক ও তাঁর কোন শরীক নেই।আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাঃ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে অহী নাযিল হত, তা সাধারণতঃ দুই প্রকারঃ প্রথম ‘অহিয়ে মাতলু’ অর্থাৎ যার অর্থ ও ভাষা উভয়ই আল্লাহর কাছ থেকে নাযিল হয়। এর নাম আল-কুরআন। দ্বিতীয় ‘অহিয়ে গায়রে মাতলু’ অর্থাৎ যার কেবল অর্থ আল্লাহর তরফ থেকে নাযিল হয়। সেই অর্থ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ভাষায় ব্যক্ত করেন, এর নাম ‘সুন্নাহ বা হাদিস’।
হাদিস যে ওহিসুত্রে পাওয়া তার প্রমাণ আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেনঃ
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
তিনি(নবী) নিজের ইচ্ছামত কোন কথা বলেন না। এ তো ওহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।(সূরা নাজম ৩,৪)
لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ
সে(নবী) যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম, অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।(সূরা আল-হাক্কাহ ৪৪-৪৬)
এর পরেও একটি সম্প্রদায় হাদিসকে অস্বীকার করে আবার একটি সম্প্রদায় মিথ্যা রচনা করে তা নাবী সাঃ বলেছেন বলেন জঘন্যতম পাপ কাজে লিপ্ত হয়।
এই ব্যাপারে আরও জানতে
হাদিস কি ও কেন ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ প্রতিটি হাদিসই আমলযোগ্য নয়। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য জাল/বানোয়াট হাদিস প্রচলিত আছে বিভিন্ন জইফ/দুর্বল হাদিস। বিশেষ করে যখন কোন বিশুদ্ধ হাদিস প্রচলিত মাযহাবের নিয়মের বিপরীত হয় তখনই তা প্রচার করা নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আপত্তি তুলে।'আপনারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন' বলে বলে তারা তোড়জোড় অপপ্রচার শুরু করেছে।
হযরত আবূ হুরায়রাহ রাঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,"তোমরা আমার উপর মিথ্যা আরোপ করো না, যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে"[সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ ২, ইফা]
একইরূপ হাদিস আরও বিভিন্ন রেওয়ায়েত থেকে বর্ণিত হয়েছে।
সামুরাহ রাঃ হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার তরফ থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, তবে সে দুই মিথ্যুকের একজন । [সহীহ বুখারী ১২৯১, তিরমিজি ২৬৬২,ইবনে মাজাহ ৩৯,আহমাদ ১৭৭৩৭]
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, "তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও প্রচার কর। আর বনী ইসরাইলদের কাছ থেকেও বর্ণনা করতে পার- কোন অসুবিধা নাই। কিন্তু, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা কথা বলবে সে যেন তার স্থান জাহান্নামে ঠিক করে নেয়।"[সহীহ বোখারী, ৬/৪৯৪, হাদীস নং ৩৪৬১]
আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলেন, "খবরদার! তোমরা আমার নামে বেশি বেশি হাদীস বলা থেকে বিরত থাকবে। যে আমার নামে কিছু বলবে, সে যেন সঠিক (কিনা নিশ্চিত হয়ে) কথা বলে। আর যে আমার নামে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি তাকে জাহান্নামে বসবাস করতে হবে। " [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ১/১৪;]
এসব দলীল থেকে প্রমাণিত হয় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে মিথ্যা হাদিস বানানো হয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে আলেম ওলামাসহ সাধারণ মুসলমানগনের অসতর্কতা, সহীহ হাদীসের চর্চা না করে যা শুনে তাই বর্ণনা করাসহ বিভিন্ন কারণে লক্ষ লক্ষ মিথ্যা কথা হাদীসের নামে সমাজে প্রশিদ্ধি লাভ করেছে।
অথচ আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ "একজন মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্টে যে, সে যা শুনবে তাই বর্ণনা করবে। [মুসলিম ৫, আবু দাউদ ৪৯৯২]
তাই আমাদের প্রত্যেককেই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত এবং প্রচলিত জাল ও যইফ হাদীসগুলো সম্পর্কে যানা উচিত। পাশাপাশি হাদীসে গ্রহণে যেন আমরা আরো সতর্ক হতে পারি সেই প্রচেষ্টা চালানো এবং এ প্রচেষ্টার দরুন শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তোষ্টি অর্জনই এ সাইটটির লক্ষ্য।
0 comments:
Post a Comment